নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিবন্ধনের তালিকা থেকে বাদ পড়ায় 'আমজনতা' দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান নির্বাচন ভবনের মূল ফটকের সামনে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার (০৪ নভেম্বর) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই অনশন আজ শনিবার (০৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। তারেক রহমানের এই কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশন কার্যালয় এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
নিবন্ধনের দাবি: অনশন, স্যালাইন ও কঠোর অবস্থান
মো. তারেক রহমান তার দলের নিবন্ধন না দেওয়ার ইসির সিদ্ধান্তকে 'অগণতান্ত্রিক' ও 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, তার দল 'আমজনতা' নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সকল শর্ত পূরণ করলেও রহস্যজনক কারণে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
-
অনশনের শুরু: মঙ্গলবার বিকেলে তারেক রহমান যখন অনশন শুরু করেন, তখন থেকেই নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল ফটক দিয়ে যাতায়াত ব্যাহত হয়। নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বারবার সরে যেতে অনুরোধ জানালেও তিনি তার অবস্থানে অনড় থাকেন।
-
স্বাস্থ্যের অবনতি: ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ায় তারেক রহমানের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, অনশনের দ্বিতীয় দিন থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। বর্তমানে তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। তবুও তিনি ইসির গেটের সামনেই শুয়ে আছেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনশন না ভাঙার ঘোষণা দিয়েছেন।
-
সমর্থন ও সংহতি: তার এই অনশনে দলের অন্যান্য নেতাকর্মীর উপস্থিতি কম থাকলেও, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সংহতি জানাতে ইসির গেটে এসেছেন। শুক্রবার (০৭ নভেম্বর) রাতে বিএনপি'র একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এসে তারেক রহমানের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন এবং তার দাবির প্রতি সমর্থন জানান। এছাড়াও, গণঅধিকার পরিষদের এক নেতাও তারেকের সঙ্গে দেখা করে তার এই প্রতিবাদকে যৌক্তিক আখ্যা দেন।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য: আইনি বাধ্যবাধকতার যুক্তি
এদিকে, তারেক রহমানের অনশন এবং রাজনৈতিক চাপ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো তাদের পূর্বের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। ইসির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইন ও বিধি মেনেই নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং কোনো দল যদি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বাদ দেওয়া ছাড়া কমিশনের কোনো উপায় থাকে না।
কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য একটি কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। মাঠ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কার্যালয় ও সদস্য থাকার শর্ত পূরণ না হলে কমিশন কেবল ব্যক্তিগত দাবির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে না। আমরা তার (তারেক রহমানের) শারীরিক অবস্থার জন্য দুঃখিত, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের সুযোগ নেই।"
রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া
তারেক রহমানের এই অনশনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
-
সমর্থকরা: আমজনতা দলের সমর্থক ও কিছু বিরোধী দল এটিকে 'গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ' হিসেবে দেখছে। তারা মনে করছেন, এই ঘটনা দেশে ভিন্ন মতের রাজনীতিকে স্তব্ধ করার একটি উদাহরণ।
-
সমালোচকরা: অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, নিবন্ধন পাওয়ার জন্য তারেক রহমানের আরও সুসংগঠিত এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। ইসির গেটে এভাবে অনশন করাকে তারা 'রাজনৈতিক নাটক' বলেও অভিহিত করছেন।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতি
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের প্রধান ফটকের সামনে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাকর। তারেক রহমানের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি দল সেখানে মোতায়েন আছে। তবে পরিস্থিতি এখনও শান্তিপূর্ণ রয়েছে।
তারেক রহমানের দাবি মেনে ইসি কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেয় কিনা, নাকি তিনি অসুস্থতা সত্ত্বেও তার অনশন চালিয়ে যান, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ। দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ভবিষ্যতে দল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এবং ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
আমি এই সংবাদ প্রতিবেদনটি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রস্তুত করেছি। আপনি যদি এই বিষয়ে অন্য কোনো বিশেষ কোণ থেকে (যেমন: তার স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা বা নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া) বিস্তারিত জানতে চান, তবে আমাকে বলতে পারেন।