ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ উত্তাল হয়ে উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বরখাস্তের দাবিতে শনিবার (১৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপাচার্য (ভিসি) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ১৫ মিনিটের আলটিমেটাম দিয়েছেন।
অধ্যাপক এরশাদ হালিমের গ্রেপ্তার
জানা যায়, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে পুরুষ শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগ ছিল। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ রাজধানীর শেওড়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে। আটকের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিক্ষোভে উত্তাল ক্যাম্পাস
শিক্ষক গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে সমাবেশ করেন এবং অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠিনতম শাস্তির দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম ও দাবি
উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রধান দাবিগুলো তুলে ধরেন। তাদের মূল দাবি হলো, অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করতে হবে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করেন, "১৫ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাদের সামনে এসে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শুনতে হবে এবং এই বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে।"
শিক্ষার্থীরা আলটিমেটাম দেওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যান। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ এবং যৌন হয়রানির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।