A L T R O Z   N E W S
সংবাদ প্রবাহ

নিরপেক্ষ না থাকলে পালানোর পথ মিলবে না: প্রশাসনের প্রতি মিয়া গোলাম পরওয়ারে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি খুলনায় এক বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আগামী নির্বাচন যদি ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের মতো হয়, তবে জাতির কপালে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে খুলনার জিরো পয়েন্টে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার এই সমাবেশ থেকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন, যা জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।


প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান: 'পালানোর পথ পাবেন না'

মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আপনারা নিরপেক্ষ থাকুন। আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ করুন। প্রত্যেক প্রার্থী যেন সমান সুযোগ পেয়ে নির্বাচনী কাজ করতে পারে।"

তিনি অতীতে বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করা কর্মকর্তাদের পরিণতি তুলে ধরে বলেন, "অতীতে যারা কোনো বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করেছে, সেই ওসি-এসপিরা সব পালিয়ে গেছে। তারা এখন ট্রাইব্যুনালে হাজির। প্রধান বিচারপতি পালিয়ে গেছেন। বায়তুল মোকাররমের খতিব পালিয়ে গেছেন। ডিআইজি পালিয়ে গেছেন। পুলিশ কমিশনার পালিয়ে গেছেন। ওসিরা চাকরি ছেড়ে বর্ডার দিয়ে ইন্ডিয়া চলে গেছেন। আপনাদের বিরুদ্ধেও যদি সেই অভিযোগ আসে, আপনারা কিন্তু পালানোর পথ পাবেন না।" এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে আইনানুগ ও নিরপেক্ষ থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।


কালো টাকার প্রভাবমুক্ত নির্বাচন ও দাঁড়িপাল্লার শপথ

জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা নির্বাচনকে 'কালো টাকার প্রভাবমুক্ত' রাখার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, জনগণ ইতোমধ্যেই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। তার ভাষায়, "যারা অতীতে ঘের দখল করেছে, মন্দির ভেঙেছে— এবার জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়ে শান্তিতে থাকার জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেয়ার শপথ করেছে।"

তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে 'কর্তৃত্বববাদী সরকারের কালো যুগ' হিসেবে আখ্যায়িত করে এক 'নতুন বাংলাদেশের' পথে যাত্রার ঘোষণা দেন। অতীতে বিভিন্ন দল ও প্রতীকের (নৌকা, লাঙ্গল, ধানের শীষ) শাসনামলে দুর্নীতি, লুটপাট, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের সংকট সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, "সুতরাং মানব রচিত বিধান দিয়ে দেশ পরিচালিত হলে দেশে শান্তি আসতে পারে না এটি প্রমাণিত।" তাই তিনি জনগণের প্রতি 'কুরআনের রাষ্ট্র' গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।


জনসমুদ্র শোভাযাত্রা: ডুমুরিয়া-ফুলতলা দাঁড়িপাল্লার স্লোগানে প্রকম্পিত

মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে এক বিশাল মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রাটি খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে গুটুদিয়া, ডুমুরিয়া, খর্ণিয়া, চুকনগর, আঠারোমাইল, রুদাঘরা, রঘুনাথপুর, শাহপুর, ধামালিয়া, জামিরা, ফুলতলা, দামোদর হয়ে শিরোমনি শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এই শোভাযাত্রায় পাঁচ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল নিয়ে সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে গোটা ডুমুরিয়া ও ফুলতলাসহ খুলনা জেলা 'দাঁড়িপাল্লার' স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। রাস্তার দু'ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসীরা এ সময় মিয়া গোলাম পরওয়ারকে 'উন্নয়নের কারিগর' বলে স্লোগান দেন। জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার জাতীয় পতাকা নিয়ে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান।


সুশাসন ও শান্তির জন্য পরিবর্তন: ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব

সাবেক এই এমপি তার দীর্ঘদিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা আসার অভিযোগ করে বলেন, "দীর্ঘ বছরের পর বছর ধরে আমাকে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম করতে দেয়া হয়নি। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম করতে পারছি, আলহামদুলল্লিাহ।"

তিনি জনগণের কাছে সুশাসন ও শান্তির জন্য পরিবর্তন, উন্নত ও আধুনিক খুলনা গড়ে তোলার বার্তা পৌঁছে দিতেই এই শোভাযাত্রার আয়োজন বলে জানান। তিনি অঙ্গীকার করেন, "সুখে-দুঃখে মানুষের কল্যাণে আমরা সবসময় আছি এবং দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এ ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।"

মিয়া গোলাম পরওয়ার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে বাংলাদেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এবং তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বসবাসযোগ্য শান্তির বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেবে। তিনি বলেন, "ইতোমধ্যে নতুন প্রজন্ম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তন এনেছে। তারা ৫৪ বছরের শাসনের দেশকে বদলে দিয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় জাতি আগামী নির্বাচনেও দেশে একটি পরিবর্তন আনবে, ইনশাআল্লাহ।" তিনি সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার মাধ্যমে আগামীর দেশকে পরিবর্তনের আহ্বান জানান।


খুলনার জিরো পয়েন্টের পথসভায় সভাপতিত্ব করেন হরিণটানা থানা আমির জি এম আব্দুল গফুর। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনা-১ আসনের (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা শেখ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, গাউসুল আযম হাদী, শেখ সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, মোস্তফা আল মুজাহিদ, আশরাফুল আলম, খুলনা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ ফকির ও সেক্রেটারি ইলিয়াস হোসাইনসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে এক ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আদেশ জারি করা হয়েছে। এই আদেশটি 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫' নামে পরিচিত, যা দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে। দেশের জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই আদেশটি এমন সময়ে এসেছে যখন জাতি একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো এবং উন্নত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। এটি কেবল নির্বাচনকালীন প্রক্রিয়াকেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সাংবিধানিক ও শাসনতান্ত্রিক সংস্কারকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করবে।


আদেশের মূল প্রতিপাদ্য ও লক্ষ্যসমূহ

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর মূল লক্ষ্য হলো জনগণের সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখা এবং সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরাসরি জনগণের ম্যান্ডেট গ্রহণ করা।

আদেশের অনুচ্ছেদ ৩ অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছে যে, "জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশে এই আদেশ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত অংশ গণভোটে উপস্থাপন করা হইবে।" এর মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।

আদেশের অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, এই গণভোটটি অনুষ্ঠিত হবে "এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন"। অর্থাৎ, ভোটাররা একই দিনে নতুন সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামোর বিষয়ে তাদের রায় দেবেন। এটি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।


গণভোটের প্রশ্ন ও সংস্কারের প্রস্তাবসমূহ

গণভোটের ব্যালটে জনগণের সামনে একটি একক এবং সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে। আদেশের অনুচ্ছেদ ৪-এ এই প্রশ্নটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে:

‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?’ (হ্যাঁ/ না)

এই প্রশ্নের অধীনে যে সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলো জনগণের সম্মতির জন্য চাওয়া হয়েছে, সেগুলো দেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনবে। এর মধ্যে রয়েছে:

ক. নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান: প্রস্তাবে বলা হয়েছে, "নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।" এটি একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘদিনের দাবিকে সাড়া দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়, যা সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার পথ সুগম করবে।

খ. দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গঠন: এই সংস্কারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো "আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষবিশিষ্ট।" প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চ কক্ষ গঠিত হইবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, সংবিধান সংশোধনী কার্যকর করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে। এটি আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য আনবে এবং ক্ষমতাকে এককেন্দ্রিক হওয়া থেকে রক্ষা করবে।

গ. সুনির্দিষ্ট ৩০টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও বাধ্যবাধকতা: আদেশে আরও বলা হয়েছে যে, "সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হইতে ডেপুটি স্পিকার ও কয়েকটি সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হইয়াছে- সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকিবে।" এই বাধ্যবাধকতা সংস্কার প্রক্রিয়াকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আইনি রূপ দিয়েছে।

ঘ. অপরাপর সংস্কারের বাস্তবায়ন: চূড়ান্তভাবে, আদেশে বলা হয়েছে, "জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।" এটি নিশ্চিত করবে যে সনদের বাকি অংশগুলোও সময়মতো কার্যকর করা হয়।


গণভোট প্রক্রিয়া ও আইনি প্রস্তুতি

আদেশের ৪ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে, গণভোটের প্রক্রিয়া হবে গোপন ব্যালটে: "ব্যালটের মাধ্যমে গণভোট অনুষ্ঠিত হইবে এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ব্যালটে প্রত্যেক ভোটার গোপনে ভোটদান করিবেন।"

এই বিশাল আয়োজন সফল করার লক্ষ্যে আদেশের অনুচ্ছেদ ৬ এ আইনি প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে: "গণভোট আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত আইন প্রণয়ন করা হবে।" এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে এই ঐতিহাসিক গণভোট পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরির ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও আইনসম্মত হয়।


সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও ম্যান্ডেট

এই গণভোটের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফলটি নির্ভর করছে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোটের ওপর। আদেশের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী, যদি গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট 'হ্যাঁ' সূচক হয়, তবে সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ পরিষদ গঠিত হবে:

ক. সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন: "এই আদেশ জারির অব্যবহিত পর অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যাহা সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।"

খ. দ্বৈত দায়িত্ব: "ওই নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসাবে এবং এই আদেশ অনুসারে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন।" অর্থাৎ, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই এই ঐতিহাসিক সংস্কারের কারিগর হবেন।

গ. সংস্কার সম্পন্ন করার সময়সীমা: এই পরিষদকে একটি কঠোর সময়সীমার মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। অনুচ্ছেদ ৭ (গ)-এ বলা হয়েছে, "পরিষদ উহার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের ফলাফল অনুসারে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে।" এই সময়সীমা নিশ্চিত করবে যে সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতায় না পড়ে দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হয়।


তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠানের এই সিদ্ধান্ত দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নকে এক নতুন স্তরে উন্নীত করবে। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেটের মাধ্যমে বৈধতা দেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ। এই গণভোট সফল হলে, বাংলাদেশ তার শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে, যা দেশের স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গঠনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের জনগণ এখন এই ঐতিহাসিক দিনে তাদের মূল্যবান রায় দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।


জনগণের রায়: এই গণভোটের ফলাফলই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের আগামী দিনের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা।

বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামীকাল, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে এই ভাষণটি সম্প্রচারিত হবে। দেশের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এবং আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে মতবিরোধ ও বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই জাতির সামনে আসছেন সরকারপ্রধান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বুধবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। এই ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ড-সহ দেশের প্রধান সম্প্রচার মাধ্যমগুলোতে একযোগে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এই ঘোষণা স্বভাবতই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

 

ভাষণের সম্ভাব্য কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণটি গত আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হতে চলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর ভাষণে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেতে পারে:

 

১. 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রূপরেখা

এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে 'জুলাই জাতীয় সনদ' বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণভোটের তারিখ এবং সংসদ নির্বাচনের আগে না পরে হবে—এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর মতো ধর্মভিত্তিক দলগুলো দ্রুত গণভোট আয়োজনের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি নির্বাচনের দিনে গণভোটের পক্ষে। এমন পরিস্থিতিতে, প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস তাঁর ভাষণে এই বিতর্কিত বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ (যদি থাকে) এর একটি পরিষ্কার রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন।

 

২. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও চ্যালেঞ্জ

দেশে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মতো বিষয়গুলো নিয়ে চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে পারেন এবং এই সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করতে পারেন।

 

৩. আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি

গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও মূল লক্ষ্য হলো একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করা। এর আগে আগস্ট মাসে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আসন্ন ভাষণে তিনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর প্রস্তুতি, নির্বাচনী রোডম্যাপের অগ্রগতি এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলতে পারেন।

 

৪. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংস্কার

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন দমনে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো সম্পর্কে জনগণকে অবগত করা প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। এছাড়া, সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে চলমান কাঠামোগত সংস্কারের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও উঠে আসতে পারে।

 

ভাষণের প্রেক্ষাপট: উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক

প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ দেওয়ার ঠিক আগে, বৃহস্পতিবার সকালে উপদেষ্টা পরিষদের একটি নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, এই বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, যা ভাষণের বিষয়বস্তু নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

জুলাই সনদ সই হওয়ার পরও এটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য না থাকায়, অন্তর্বর্তী সরকার দলগুলোকে সমঝোতায় আসতে যে সময় দিয়েছিল, তা প্রায় শেষের দিকে। এই জটিল রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে সরকার প্রধানের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

 

সম্প্রচারের গুরুত্ব

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বিটিভি নিউজ এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ড-এর মতো রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার এই বার্তা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও পৌঁছে যাবে। দেশের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে সরকার প্রধানের মুখ থেকে সরাসরি দিকনির্দেশনা শোনার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে, তখন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের এই ভাষণ জাতি এবং আন্তর্জাতিক মহলের জন্য এক সুস্পষ্ট বার্তা বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তাঁর বক্তব্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জট খোলার কোনো কার্যকর পথ নির্দেশিত হয় কিনা।

দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে উচ্চ সতর্কতা জারি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে একটি মেট্রো রেলস্টেশনের ফটকের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ ঘটনার পর দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ, জয়পুর এবং উত্তরাখণ্ডসহ বিভিন্ন রাজ্যে উচ্চ সতর্কতা বা হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

বিস্ফোরণের বিবরণ

আজ সোমবার (১০ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে দিল্লির অন্যতম জনাকীর্ণ এলাকা লাল কেল্লার একটি মেট্রো রেলস্টেশনের ফটকের কাছে একটি গাড়িতে এই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে।

  • বিস্ফোরণের স্থান: দিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি।

  • ধ্বংসের চিত্র: ছবি ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে গাড়িটির দরজা এবং অন্যান্য অংশ উড়ে গেছে। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, আশপাশের আরও কয়েকটি গাড়ি এবং দোকানেও আগুন ধরে যায় এবং অন্তত ২২টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

  • হতাহত: পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যার এই বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। আহতরা সবাই হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাদের মধ্যে অন্তত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কোনো কোনো সূত্র মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলেও দাবি করেছে।

  • তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা: বিস্ফোরণের পর আগুন নেভানোর কাজে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ২০টি ট্রাককে দ্রুত নিয়োগ করা হয়। সরকারি সূত্র জানায়, কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

 

লাল কেল্লায় ভিড়

মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত দিল্লির লাল কেল্লা প্রতিদিন দেখতে যান হাজার হাজার পর্যটক। সবসময়েই সেখানে ভিড় থাকে এবং বিস্ফোরণের সময়েও ওই এলাকায় যথেষ্ট ভিড় ছিল। এই ব্যস্ত পর্যটন কেন্দ্রে এমন শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

 

উচ্চ সতর্কতা জারি এবং তদন্ত

বিস্ফোরণের পরপরই শুধু দিল্লি নয়, বরং মুম্বাই, উত্তরপ্রদেশ, জয়পুর এবং উত্তরাখণ্ডে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে।

  • নাশকতার আশঙ্কা: যদিও দিল্লি পুলিশ এখনও বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য দেয়নি, তবে পুলিশ কর্মকর্তারা সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

  • তদন্ত: বিস্ফোরণের খবর পেয়েই ভারতের শীর্ষ সন্ত্রাস তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তদন্ত শুরু করে। ফরেনসিক ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।

  • পারিপার্শ্বিক ঘটনা: বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগে হরিয়ানার ফরিদাবাদে দুটি আবাসিক ভবন থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি (৩ টন) বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছিল, যার মধ্যে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল। একই দিনে এই দুটি ঘটনা ঘটায় নাশকতার সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।


আমি আপনার জন্য এই সংবাদটিকে ৮০০ শব্দের মধ্যে তৈরি করতে সক্ষম হলাম। এই ঘটনা সংক্রান্ত বা অন্য কোনো বিষয়ে আরও কোনো তথ্য জানতে চান কি?

হুদায়বিয়ার সন্ধি: ইসলামের ইতিহাসে এক মোড় ঘোড়ানো অধ্যায়

ইসলামের ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি সংঘটিত হয় ৬ হিজরিতে (৬২৮ খ্রিস্টাব্দে), যখন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে নিয়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে উমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। স্বপ্নে দেখা এই সফরের অনুপ্রেরণায় তিনি প্রায় ১,৪০০ জন সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে মদিনা থেকে মক্কার পথে যাত্রা শুরু করেন।

তবে কুরাইশরা মুসলমানদের মক্কায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি এবং উভয় পক্ষের মধ্যে হুদায়বিয়া নামক স্থানে অবস্থানকালেই দীর্ঘ আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনা থেকেই পরবর্তীতে চুক্তির রূপরেখা তৈরি হয়।


সন্ধির প্রধান শর্তাবলি

এই সন্ধি কেবলমাত্র একটি সাময়িক চুক্তি নয়, বরং এটি ইসলামের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। চুক্তির প্রধান শর্তগুলো ছিল নিম্নরূপ:

  • দুই পক্ষের মধ্যে ১০ বছরের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা।

  • মুসলমানরা সেই বছর উমরাহ না করে পরবর্তী বছর তিন দিন মক্কায় অবস্থানের অনুমতি পাবে।

  • কুরাইশ বা মুসলমান—যে কোনো গোত্র যে পক্ষ নিতে চায়, তা নিতে পারবে।

  • কুরাইশদের দিক থেকে কেউ মুসলিমদের শিবিরে গেলে তাকে ফেরত পাঠাতে হবে না, কিন্তু মুসলমানদের পক্ষ থেকে কেউ গেলে তাকে ফেরত পাঠাতে হবে

এই চুক্তির একতরফা কিছু শর্ত নিয়ে তখন অনেক সাহাবি দ্বিধায় ছিলেন, কিন্তু মহানবী (সা.) দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে সাহসিকতার সঙ্গে এটি সম্পন্ন করেন।


মুসলিম সমাজে চুক্তির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

সন্ধির শর্তাবলি শুনে সাহাবিদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেকেই ভাবেন এটি মুসলমানদের জন্য অসম্মানজনক। তবে মহানবী (সা.) তাদেরকে আশ্বস্ত করেন যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে "স্পষ্ট বিজয়" হিসেবে বিবেচিত হবে। এর পরই নাজিল হয় সূরা আল-ফাতহ, যেখানে বলা হয়, "নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে স্পষ্ট বিজয় দান করেছি" (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত ১)

এই আয়াত সাহাবিদের মনোবল পুনরায় দৃঢ় করে এবং তাদের বিশ্বাস আরও গভীর হয়।


সন্ধির প্রভাব ও সুফল

হুদায়বিয়ার সন্ধির সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল—এটি মুসলমানদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে। এতে তারা যুদ্ধের চাপ ছাড়াই ইসলাম প্রচার ও দাওয়াতের কাজ চালাতে পারেন। এই সময়টিতে ইসলামের বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বহু গোত্র ইসলাম গ্রহণ করে।

তাছাড়া কুরাইশরা মুসলমানদের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেয়—যা ছিল একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অর্জন।


চুক্তি ভঙ্গ ও মক্কা বিজয়ের পথ

চুক্তির মাত্র দুই বছরের মাথায় কুরাইশরা একটি মিত্র গোত্রকে আক্রমণ করে চুক্তি ভঙ্গ করে। এই ঘটনার পর মহানবী (সা.) ১০,০০০ সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে মক্কা অভিমুখে রওনা হন। এরপর বিনা রক্তপাতে মুসলমানরা মক্কা বিজয় করে, যা ইসলামের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা।


ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্ব

হুদায়বিয়ার সন্ধি প্রমাণ করে যে, শান্তিপূর্ণ কৌশল ও কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমেও ইসলাম প্রচারে সফলতা অর্জন করা যায়। এটি দেখিয়েছে যে, ধৈর্য, দূরদর্শিতা এবং কৌশলগত পরিকল্পনা কিভাবে একটি জাতিকে বিজয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।


উপসংহার

হুদায়বিয়ার সন্ধি শুধু একটি শান্তিচুক্তি ছিল না, এটি ছিল ইসলামের জন্য একটি কৌশলগত ও ঐতিহাসিক বিজয়। এটি মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং ইসলামকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেয়। এই সন্ধির মাধ্যমে মহানবী (সা.) মুসলমানদের শিখিয়েছেন—শান্তি, কূটনীতি ও ধৈর্যের মাধ্যমেই প্রকৃত বিজয় অর্জন সম্ভব

গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠাই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, 'কারো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করা এই সরকারের কাজ নয়।'

শনিবার (৮ নভেম্বর, ২০২৫) রাজধানীর ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মাতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোট আয়োজিত ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।


ফ্যাসিবাদী শাসনামলের চিত্র ও আইনের শাসনের অভাব

তারেক রহমান পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সবচেয়ে জনসমর্থিত ও জনপ্রিয় দল হওয়া সত্ত্বেও, সেই সময়ে শুধুমাত্র বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেই কমপক্ষে দেড় লাখ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ৭০০-র বেশি নেতাকর্মীকে গুম, অপহরণ ও খুন করা হয়েছিল। এমনকি অকারণে রাতের বেলায় আদালত বসিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। এসবের মূল কারণ ছিল দেশে আইনের শাসনের অভাব।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পলাতক স্বৈরাচারের শাসনামলে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—ডান বা বাম, বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী, ভিন্ন দল-মতের কেউই সেদিন নিরাপদ ছিল না। উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০১২ সালে রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা এবং ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হামলার কথা টেনে বলেন, সেইসব হামলাসহ দেশের কোথাও কোনো একটি হামলারও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত বা বিচার হয়নি।


নাগরিক তদন্ত কমিশন ও ন্যায়বিচারের দাবি

গত দেড় দশকে বিএনপি এবং এর নেতৃবৃন্দ দেশের সুশীল সমাজ, সর্বদলীয় ও সর্বধর্মীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি নাগরিক তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন। এই কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বাসাবাড়ি কিংবা উপাসনালয়ে সংঘটিত প্রতিটি হামলার নেপথ্য ঘটনা উদ্ঘাটন করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু তারেক রহমান আক্ষেপ করে বলেন, সেই দাবিগুলোর একটিও বাস্তবায়িত হয়নি; কোনো বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিশনও গঠন করা হয়নি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মতে, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ছাড়া সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু—কোনো নাগরিকেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একমাত্র ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনই দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।


গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও 'গুপ্ত কৌশলের' বিষয়ে সতর্কবার্তা

তারেক রহমান মনে করেন, ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—প্রতিটি ধর্মের প্রতিটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা একটি বিশাল সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথের কিছু সঙ্গীর ভূমিকা দেশের বহু মানুষের অধিকার ও সুযোগকে বিনষ্ট করার এক পরিস্থিতি তৈরি করছে। দেশ যদি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে, তাহলে অতীতে পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদী অপশক্তির পুনর্বাসনের পথ সুগম হতে পারে।

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানান, যেন তারা সজাগ দৃষ্টি রাখেন। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিরোধীরা বাঁচার জন্য যেভাবে 'গুপ্ত কৌশল' অবলম্বন করেছিল, আজ পতিত পরাজিত সেই ফ্যাসিবাদী অপশক্তিও একইভাবে গুপ্ত কৌশল অবলম্বন করে গণতন্ত্রের উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে কিনা, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

তারেক রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পতিত পরাজিত অপশক্তি যেন কোনো দলের আড়ালে গুপ্ত কৌশলে ভূমিকা রেখে দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এই গুপ্ত বাহিনীর অপকৌশল থেকে রক্ষা পাওয়ার অন্যতম প্রধান উপায় হলো একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা ও বহাল রাখা। এই কারণেই বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকার এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের রাজপথের সঙ্গীদের সাথে সহযোগিতা ও সমঝোতার দৃষ্টিভঙ্গি সমুন্নত রেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি বরাবরই একটি শান্তিকামী, সহনশীল ও গণমুখী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্ন দল ও ভিন্ন মতের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করা বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ঘোষণা

জনগণের রায় অনুযায়ী বিএনপি আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে তাদের অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানমূলক পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান:

  • ফ্যামিলি কার্ড: অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ৫০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানের নামে প্রাথমিকভাবে 'ফ্যামিলি কার্ড' ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • ফার্মার্স কার্ড: প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করতে 'ফার্মার্স কার্ড' দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

  • কর্মসংস্থান: যুব সমাজের বেকারত্ব দূর করতে তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদেরকে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক শিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়—এই পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।


এই বক্তব্যের সারসংক্ষেপ নিয়ে আপনার যদি আরও কোনো নির্দিষ্ট অংশ সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে হয়, তাহলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

১০৫ ঘন্টা অনশন থেকে অসুস্থ তারেক, যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় কোন অঘটন

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিবন্ধনের তালিকা থেকে বাদ পড়ায় 'আমজনতা' দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান নির্বাচন ভবনের মূল ফটকের সামনে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার (০৪ নভেম্বর) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই অনশন আজ শনিবার (০৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। তারেক রহমানের এই কঠোর অবস্থান নির্বাচন কমিশন কার্যালয় এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

নিবন্ধনের দাবি: অনশন, স্যালাইন ও কঠোর অবস্থান

মো. তারেক রহমান তার দলের নিবন্ধন না দেওয়ার ইসির সিদ্ধান্তকে 'অগণতান্ত্রিক' ও 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, তার দল 'আমজনতা' নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সকল শর্ত পূরণ করলেও রহস্যজনক কারণে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

  • অনশনের শুরু: মঙ্গলবার বিকেলে তারেক রহমান যখন অনশন শুরু করেন, তখন থেকেই নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল ফটক দিয়ে যাতায়াত ব্যাহত হয়। নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বারবার সরে যেতে অনুরোধ জানালেও তিনি তার অবস্থানে অনড় থাকেন।

  • স্বাস্থ্যের অবনতি: ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ায় তারেক রহমানের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, অনশনের দ্বিতীয় দিন থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। বর্তমানে তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। তবুও তিনি ইসির গেটের সামনেই শুয়ে আছেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনশন না ভাঙার ঘোষণা দিয়েছেন।

  • সমর্থন ও সংহতি: তার এই অনশনে দলের অন্যান্য নেতাকর্মীর উপস্থিতি কম থাকলেও, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সংহতি জানাতে ইসির গেটে এসেছেন। শুক্রবার (০৭ নভেম্বর) রাতে বিএনপি'র একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এসে তারেক রহমানের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন এবং তার দাবির প্রতি সমর্থন জানান। এছাড়াও, গণঅধিকার পরিষদের এক নেতাও তারেকের সঙ্গে দেখা করে তার এই প্রতিবাদকে যৌক্তিক আখ্যা দেন।

 

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য: আইনি বাধ্যবাধকতার যুক্তি

এদিকে, তারেক রহমানের অনশন এবং রাজনৈতিক চাপ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এখনো তাদের পূর্বের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। ইসির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইন ও বিধি মেনেই নিবন্ধনের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং কোনো দল যদি শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বাদ দেওয়া ছাড়া কমিশনের কোনো উপায় থাকে না।

কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য একটি কঠোর প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। মাঠ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কার্যালয় ও সদস্য থাকার শর্ত পূরণ না হলে কমিশন কেবল ব্যক্তিগত দাবির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে না। আমরা তার (তারেক রহমানের) শারীরিক অবস্থার জন্য দুঃখিত, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের সুযোগ নেই।"

 

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

তারেক রহমানের এই অনশনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

  • সমর্থকরা: আমজনতা দলের সমর্থক ও কিছু বিরোধী দল এটিকে 'গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ' হিসেবে দেখছে। তারা মনে করছেন, এই ঘটনা দেশে ভিন্ন মতের রাজনীতিকে স্তব্ধ করার একটি উদাহরণ।

  • সমালোচকরা: অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, নিবন্ধন পাওয়ার জন্য তারেক রহমানের আরও সুসংগঠিত এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। ইসির গেটে এভাবে অনশন করাকে তারা 'রাজনৈতিক নাটক' বলেও অভিহিত করছেন।

 

উত্তেজনাকর পরিস্থিতি

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের প্রধান ফটকের সামনে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাকর। তারেক রহমানের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি দল সেখানে মোতায়েন আছে। তবে পরিস্থিতি এখনও শান্তিপূর্ণ রয়েছে।

তারেক রহমানের দাবি মেনে ইসি কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেয় কিনা, নাকি তিনি অসুস্থতা সত্ত্বেও তার অনশন চালিয়ে যান, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ। দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ভবিষ্যতে দল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এবং ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।


আমি এই সংবাদ প্রতিবেদনটি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রস্তুত করেছি। আপনি যদি এই বিষয়ে অন্য কোনো বিশেষ কোণ থেকে (যেমন: তার স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা বা নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া) বিস্তারিত জানতে চান, তবে আমাকে বলতে পারেন।

জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট, দ্রুত তফসিল ঘোষণা করতে হবে | বিএনপি মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) যশোরে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হবে, এর আগে না। দ্রুত তফসিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচন দিতে হবে।” তাঁর এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে নির্বাচনকালীন সরকার এবং ভোটের পরিবেশ নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

 

বিএনপির শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থান

সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য তরিকুল ইসলামের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত এই স্মরণসভাটি অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যায় যশোর টাউন হল ময়দানে। সেখানে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৃঢ়তার সাথে বলেন, “বিএনপি ভেসে আসা কোনো রাজনৈতিক দল না। এই দলকে খাটো করে দেখবেন না। বিএনপি যদি মাঠে নামে তাহলে রাজনৈতিক বিষয়গুলো ভিন্নভাবে আসবে।”

দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক শক্তি, তাঁর বক্তব্যে সেই বার্তাটিই উচ্চারিত হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপি যেকোনো মুহূর্তে তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত, যা দেশের সার্বিক রাজনৈতিক সমীকরণকে বদলে দিতে পারে। এই হুঁশিয়ারি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

 

উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারের জন্য গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, উপদেষ্টা পরিষদ পক্ষপাতদুষ্টু হয়ে কাজ করছে এবং তারা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করছে না।

তিনি উল্লেখ করেন যে, উপদেষ্টা পরিষদ ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে মাত্র সাত দিন সময় দিয়েছেন। কিন্তু এর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দল তো হাতের খেলনার মতো নয়।” দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জনগণের সমর্থন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত একটি দলকে আলোচনার জন্য এমন সীমিত সময় দেওয়া অযৌক্তিক বলে তিনি মনে করেন।

বিএনপি মহাসচিব জানান, তার দল সংস্কার কমিশনের সব সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং তাদের মতামত দিয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, যে বিষয়গুলোতে ইতোমধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলোর উপর ভিত্তি করে কাজ শুরু করা উচিত। আর যে বিষয়গুলো নিয়ে এখনো মতৈক্য হয়নি, সেগুলোকে পরবর্তী পার্লামেন্টে আলোচনা ও সমাধানের জন্য তুলে রাখা যেতে পারে।

তবে, তিনি অভিযোগ করেন যে উপদেষ্টা পরিষদ তা না করে “পক্ষপাতদুষ্টু হয়ে কাজ করছেন” এবং তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে “দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত ষড়যন্ত্র হচ্ছে।” এই গুরুতর অভিযোগটি রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং নির্বাচন কমিশন ও এর সহায়ক সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি করছে।

 

রক্ত দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান

দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপদেষ্টাদের প্রতি সরাসরি কঠোর বার্তা দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, “অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন হয়েছি।” তিনি আরও বলেন, চব্বিশের আন্দোলনের পথ ধরে এখন গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগকে নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, “দয়া করে পানি ঘোলা করবেন না। দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবেন না।”

তাঁর এই আহ্বান মূলত নির্বাচনকালীন সময়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রতি জোর দেয়। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো প্রকার চক্রান্ত বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

 

স্মরণসভার উপস্থিত বক্তাবৃন্দ

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও যারা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

  • বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু

  • সাবেক তথ্যবিষয়ক সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি

  • কৃষকদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক টি এস আইয়ুব

  • ঝিকরগাছা থানা বিএনপির সভাপতি সাবিরা নাজমুল মুন্নী

  • ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ

  • বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ

  • জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম

  • জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহক

  • চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান

  • নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী

  • কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন

  • ইমাম পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান

এছাড়াও, মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মরহুম তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং তাদের পুত্র, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তাদের উপস্থিতি এই স্মরণসভাকে আরও আবেগঘন করে তোলে।

 

রাজনৈতিক প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গভীর মতপার্থক্য বিদ্যমান। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হবে’—এই ঘোষণা কেবল নির্বাচনকে একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে না দেখে, বরং ক্ষমতাসীন দলের প্রতি জনগণের আস্থার প্রকাশ হিসেবে দেখার ইঙ্গিত দেয়। এটি স্পষ্ট করে যে, বিএনপি মনে করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তা এবং ক্ষমতা থাকার বৈধতার চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাথে যুক্ত সকল পক্ষকে তাদের দায়িত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য একটি জোরালো বার্তা দিয়েছে। এখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং উপদেষ্টা পরিষদ তাদের কার্যক্রমে বিএনপির অভিযোগের প্রতি কীভাবে সাড়া দেয়, সেদিকেই সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকবে। নির্বাচন দ্রুত এবং সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য মির্জা ফখরুলের আহ্বান দেশে একটি দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশাকেই তুলে ধরে। দেশের গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য দলটির কঠোর অবস্থান রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। এই সমাবেশটি কেবল তরিকুল ইসলামকে স্মরণ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছে। দেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপির এই দৃঢ়তা আগামী দিনগুলোতে আরও বড় আন্দোলনের জন্ম দিতে পারে।


জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ ভর্তি ২০২৫: আবেদন শুরু, দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগসহ বিস্তারিত জানুন

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছভুক্ত ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু, থাকছে দ্বিতীয়বারের সুযোগ

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু হয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এবারও ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ তিনটি ইউনিটে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং থাকছে দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ।

আবেদন শুরুর তারিখ ও সময়সীমা: আবেদন শুরু: ৫ মার্চ, দুপুর ১২টা শেষ তারিখ: ১৫ মার্চ, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট

আবেদনের যোগ্যতা:

  • এসএসসি/সমমান: ২০২০, ২০২১, ২০২২ সালে উত্তীর্ণ

  • এইচএসসি/সমমান: ২০২৩ বা ২০২৪ সালে উত্তীর্ণ

ইউনিটভিত্তিক আবেদন যোগ্যতা:

  • ইউনিট A (বিজ্ঞান):

    • এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) কমপক্ষে জিপিএ ৩.৫০

    • মোট জিপিএ: কমপক্ষে ৭.৫০

  • ইউনিট B (মানবিক):

    • উভয় পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০

    • মোট জিপিএ: কমপক্ষে ৬.০০

  • ইউনিট C (বাণিজ্য):

    • উভয় পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০

    • মোট জিপিএ: কমপক্ষে ৬.৫০

  • ‘O’ ও ‘A’ লেভেল:

    • ‘O’ লেভেল: ৫ বিষয়ে পাস (৩টিতে B গ্রেড সহ)

    • ‘A’ লেভেল: ৩ বিষয়ে পাস (২টিতে B গ্রেড সহ)

আবেদনের ওয়েবসাইট:  www.gstadmission.ac.bd

ছবি আপলোড নির্দেশিকা:

  • ৩০০x৩০০ পিক্সেল, স্টুডিও কোয়ালিটি, JPG ফরম্যাট

  • ফাইল সাইজ ১০০ কেবির মধ্যে

  • স্কুল ড্রেস নয়, মুখমণ্ডল ও কান স্পষ্ট থাকতে হবে

সেলফি নির্দেশিকা:

  • আলোকোজ্জ্বল স্থানে তুলতে হবে

  • মুখ ও দুই কান খোলা থাকতে হবে

  • এটি বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের কাজে ব্যবহৃত হবে

ভর্তি পরীক্ষা সময়সূচি:

  • ইউনিট C (বাণিজ্য): ৫ এপ্রিল ২০২৫, সকাল ১১টা

  • ইউনিট B (মানবিক): ২ মে ২০২৫, সকাল ১১টা

  • ইউনিট A (বিজ্ঞান): ৯ মে ২০২৫, সকাল ১১টা

  • আর্কিটেকচার ব্যবহারিক (ড্রয়িং): বিকেল ৩টা–৪টা

আবেদন ফি:

  • সাধারণ ফি: ১৫০০ টাকা

  • আর্কিটেকচার ব্যবহারিক: অতিরিক্ত ৫০০ টাকা

গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ: ১. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ২. মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৩. পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৪. নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৫. জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ৬. যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৭. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ৮. পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৯. গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১০. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ১১. রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১২. রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ১৩. গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি ১৪. নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫. জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৬. কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ১৭. চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৮. সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯. পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে। এই পরিস্থিতি তখন নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।


যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক

বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে বিএনপি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নিতে যমুনা ভবনে প্রবেশ করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বিকেল ২টার দিকে তারা বের হন।


দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আমরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে নির্বাচন নিয়ে আমাদের উদ্বেগ ও সুপারিশ তুলে ধরেছি। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এটি না হলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে অস্থিরতা তৈরি হবে, তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্যও কষ্টকর হয়ে উঠবে।”


চার্টার গঠনের প্রস্তাব

বিএনপি মহাসচিব জানান, সরকার গঠিত সংস্কার কমিশন নিয়ে বিএনপির মতামত তুলে ধরা হয়েছে এবং তারা এসব প্রক্রিয়ায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, “আমরা বলেছি যে, যেসব বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য হবে, সেগুলো নিয়ে একটি ‘চার্টার’ করতে আমরা রাজি আছি।”


ডিসেম্বরই কাট-অফ টাইম

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি—আমাদের সময়সীমা ডিসেম্বর। এর পরের সময় আমরা মেনে নিতে রাজি নই।”

তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ দেননি। তবে বলেছেন যে তিনি ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে চান। কিন্তু আমাদের স্পষ্ট অবস্থান হলো—ডিসেম্বরই আমাদের কাট-অফ টাইম।”


দলের সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “আমরা দলের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করবো এবং আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।”


প্রতিনিধি দলের সদস্যরা

প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।


রাজনীতিতে আলোচনা জোরালো হচ্ছে

এ বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি আবারও নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দাবিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও গতি পাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

রাহমাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ঈদ পুনর্মিলনী ২০২৫: আনন্দ, শিক্ষা ও ইসলামী বন্ধনের অপূর্ব সমন্বয়

১৩ এপ্রিল ২০২৫ (রবিবার) ঢাকার উত্তরা ব্রাঞ্চে রাহমাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে আজ অনুষ্ঠিত হলো এক আনন্দঘন ও শিক্ষা-সমৃদ্ধ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। ইসলামী আদর্শে পরিচালিত এই স্কুলটি প্রতি বছর ঈদের পরপরই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের নিয়ে এমন আয়োজন করে থাকে — যেখানে একসাথে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করা হয় এবং শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতার চর্চা হয় বাস্তব পরিসরে।

অনুষ্ঠানের সূচনা: কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামিক নাশিদে হৃদয় ছোঁয়া সূচনা-

সকাল ১০টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের সূচনা হয় তেলাওয়াত ও ইসলামিক নাশিদ দিয়ে। পবিত্র কুরআনের আয়াত শুনে উপস্থিত সবাই এক আত্মিক প্রশান্তি অনুভব করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের নাশিদ, কবিতা আবৃত্তি পরিবেশনা হয়।

শিশুদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত পরিবেশ

বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রস্তুতকৃত পরিবেশনায় অংশ নেয়। প্রতিটি পরিবেশনায় ছিল ইসলামী শিক্ষার আলো এবং নৈতিক বার্তা।

চিত্রগ্রহণ ও গার্ডিয়ানদের সম্পৃক্ততা

অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তগুলো ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে ধারণ করা হয়। উপস্থিত অভিভাবকগণ তাঁদের সন্তানদের পারফরম্যান্স সরাসরি উপভোগ করেন এবং এ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই ধরণের অনুষ্ঠান বিদ্যালয় ও পরিবারের মাঝে সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলে।

আপ্যায়ন ও আন্তরিক মিলনমেলা

অনুষ্ঠানের শেষে ছিল হালকা নাস্তার আয়োজন, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক একত্রে মিলিত হন। এতে ঈদের সৌন্দর্য ও ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ আরও বেশি করে ফুটে ওঠে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল বলেন-

আমরা চাই শিশুদের শুধু পড়ালেখা নয়, বরং ইসলামি মূল্যবোধ ও সামাজিক দক্ষতার উন্নয়ন ঘটুক। ঈদ পুনর্মিলনীর মতো আয়োজনে শিশুরা যেমন আনন্দ করে, তেমনি জীবনের প্রকৃত শিক্ষাও পায়।

রাহমাহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এই ঈদ পুনর্মিলনী শুধু একটি অনুষ্ঠান নয় — এটি এক প্রাণবন্ত শিক্ষা, যেখানে ইসলাম, আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও শৃঙ্খলার অপূর্ব সমন্বয় ঘটে। এই ধরণের আয়োজন একটি আদর্শ ইসলামিক স্কুলের পরিচয় বহন করে।

ভোজ্যতেল বাজারে উর্ধ্বগতি, সয়াবিন তেলে লিটারে ১৪ টাকা বাড়তি চাপ

সরকার এবং ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েক দফা দর-কষাকষির পর অবশেষে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করেছে ব্যবসায়ীরা। পূর্বে এই দাম ছিল ১৭৫ টাকা। ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন রোববার (১৩ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের ঘোষণা দেয় এবং জানিয়েছে যে, ঘোষণার পর থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন দাম কীভাবে নির্ধারিত হলো?

প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়েছে, পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম আগের ৮৫২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২২ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা।

এর আগে ৯ ডিসেম্বর সর্বশেষ বার সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল, যখন প্রতি লিটারের দাম ছিল ১৭৫ টাকা। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা পুনরায় মূল্যবৃদ্ধির দাবি করে আসছিলেন।

দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ

জানা গেছে, চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঈদের আগে মিল মালিকেরা নতুন করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তারা বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮ টাকা ও খোলা তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। কারণ হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং দেশে শুল্ক কর সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ১ এপ্রিল থেকে কর সুবিধার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়ে বাজারমূল্যে। এরপরেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে বসেন তারা।

দীর্ঘ আলোচনা ও দর-কষাকষি

ঈদের ছুটি শেষে সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে রবি, মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার দফায় দফায় বৈঠক হয়। এই বৈঠকগুলোতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯০ টাকার বেশি হবে কিনা, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়। যদিও প্রথমদিকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি, অবশেষে ১৮৯ টাকায় সম্মত হয় উভয় পক্ষ।

শুল্ক সুবিধা বাড়াতে সুপারিশ

ট্যারিফ কমিশন ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কে একটি চিঠি দিয়ে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কর ছাড়ের মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। তবে এখনও এনবিআর চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

এই দাম বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এক প্রকার ধাক্কা। তারা মনে করছেন, ঈদের পরপরই এমন দাম বাড়ানো জনসাধারণের কষ্ট আরও বাড়িয়ে তুলবে। সরকারের উচিত বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ তেল সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রাখা।

গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত আরও ২৯, পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর টানা হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলা বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) ভোর থেকে শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ভোর পর্যন্ত চালানো হয়েছে।

মানবিক বিপর্যয় বেড়েই চলেছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইসরাইলের অবরোধের কারণে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সেখানে রোগ ও মৃত্যুর আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। তার মতে, বর্তমানে গাজার অন্তত ১০ হাজারের বেশি মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

ভয়াবহ পরিসংখ্যান

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০,৮৮৬ জন নিহত হয়েছেন এবং ১,১৫,৮৭৫ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানায়, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ৬১,৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ, যাদের অনেকেই হয়তো আর জীবিত নেই।

সুড়ঙ্গ ও কৌশলগত উদ্বেগ

ইসরাইলের টিভি চ্যানেল ১২ জানায়, গাজার ভেতরে হামাসের কৌশলগত সুড়ঙ্গগুলোর মধ্যে মাত্র ২৫% ধ্বংস করতে পেরেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, গাজা ও মিসরের সীমান্তে অনেক চোরাচালান সুড়ঙ্গ এখনো সচল রয়েছে এবং এদের অধিকাংশই এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

এই তথ্য উঠে এসেছে ফিলাডেলফি করিডোর সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আলোচনায়। সেখানে এখনো ইসরাইল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি পিছু হটার বিষয়ে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভূগর্ভস্থ চোরাচালান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা সম্ভব নয়।

ফিলাডেলফি করিডোর ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

প্রায় দেড় মাস আগে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক বৈঠকে বলেন, ফিলাডেলফি করিডোরকে একটি ‘বাফার জোন’ হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে; যেমনটি লেবানন ও সিরিয়ায় করা হয়েছে।

চ্যানেল ১২ জানায়, তিনি আরও বলেন—

"আমি নিজে ফিলাডেলফি এলাকায় গিয়ে অনেক সুড়ঙ্গ পরিদর্শন করেছি। কিছু বন্ধ, কিছু এখনো খোলা রয়েছে। আমরা এমন তথ্য পেয়েছি যে, যুদ্ধবিরতির সময় হামাস আবারও হামলার পরিকল্পনা করছে, যার লক্ষ্য হতে পারে আমাদের সেনা সদস্য এবং আবাসিক এলাকা।" 

প্রতিবেদক: দিগন্ত বাংলা
ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক

ঢাকায় নেতানিয়াহুর ছবিতে জুতাপেটা: ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রতিবাদের খবর

১২ এপ্রিল, শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করে। এই বিক্ষোভ সমাবেশে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ঢাকায় এসে ফিলিস্তিনের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা শত শত ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে নিয়ে ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন, এবং গাজার বেসামরিকদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাতে তারা এই প্রতিবাদে অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীরা গাজার জনগণের প্রতি তাদের সমর্থন ও ইসরাইলের নৃশংস হামলার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল গাজায় ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানানো এবং ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

নেতানিয়াহু ও তার মিত্রদের ছবিতে আঘাত: প্রতিবাদের শক্তিশালী বার্তা

এদিনের প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীরা প্রধানত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার মিত্রদের ছবি পদদলিত করেন। বিশেষত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবিতেও আঘাত করা হয়। এটি ছিল গাজার ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ। বিক্ষোভকারীরা তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানান, তারা ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে এবং ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

এছাড়াও, সমাবেশে ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়, যার মধ্যে নেতানিয়াহু, ট্রাম্প, এবং মোদির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল স্পষ্ট। ছবিগুলোর ওপর আঘাত করে প্রতিবাদকারীরা এককাট্টা হয়ে বলছেন, তারা এই নেতাদের উত্থান এবং তাদের ফিলিস্তিনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে।

প্রতীকী কফিন: গাজার বেসামরিক নিহতদের স্মরণ

বিক্ষোভকারীরা গাজার নিহত বেসামরিকদের স্মরণে প্রতীকী কফিন এবং মৃতদেহের আকারে প্রতীকী লাশ নিয়ে আসেন। এভাবে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গাজার নিরীহ মানুষের ওপর ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদ জানান। এই প্রতীকী প্রতিবাদ গাজার ওপর ইসরাইলি হামলার নির্মমতা ও বর্বরতা তুলে ধরে এবং গাজার জনগণের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের গভীর সহানুভূতির প্রতিফলন।

প্রতীকী কফিন এবং মৃতদেহের লাশ প্রদর্শন করে, বিক্ষোভকারীরা সারা বিশ্বের কাছে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা পাঠিয়েছেন: গাজার বেসামরিকরা মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত, এবং তাদের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। বাংলাদেশ এই আন্দোলনে সামিল হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ফিলিস্তিনের অধিকারের পক্ষে এক দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান: ফিলিস্তিনের পক্ষে ঐক্য

বাংলাদেশ, একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখে না এবং আনুষ্ঠানিকভাবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেয়। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে এককাট্টা হয়ে কাজ করছে। এই প্রতিবাদ সমাবেশটি বাংলাদেশের জনগণের গাজার প্রতি দীর্ঘদিনের সমর্থনের এক আরেকটি শক্তিশালী উদাহরণ।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে বিভিন্ন সময়ে সমর্থন জানানো হয়েছে। বিশেষত, বাংলাদেশি জনগণ তাদের নৈতিক সমর্থন দিয়ে বিশ্বকে জানান দিয়েছে যে, তারা সবসময় ফিলিস্তিনের অধিকার এবং স্বাধীনতা পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকবে।

বিশ্ব মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ: টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন

এই বিক্ষোভ সমাবেশটি বিশ্বব্যাপী মিডিয়ার নজর কাড়ে। বিশেষ করে টাইমস অব ইসরাইল তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশের প্রতীকী প্রতিবাদ এবং অংশগ্রহণকারীদের শক্তিশালী বার্তা বিশ্বকে পৌঁছে দেয়। টাইমস অব ইসরাইল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভটি ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে এক বড় ধরনের প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাদের মতে, ঢাকায় এক লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন, যা গাজার ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের দৃঢ় অবস্থানকে বিশ্বব্যাপী জানান দেয়।

ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন: বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের দৃঢ় অবস্থান

বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার এবং তারা আন্তর্জাতিক স্তরে ফিলিস্তিনের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। গাজার প্রতি এই সমর্থন শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা এক কণ্ঠে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং গাজার জনগণের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

এই প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশের জনগণের অংশগ্রহণ এবং সমর্থন শুধু একটি জাতীয় বিষয় নয়, এটি আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে বাংলাদেশে: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, "আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসের সর্বোত্তম নির্বাচন। এটি গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।"

শনিবার, ১৯ এপ্রিল, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) নামক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


কী বলেছে প্রধান উপদেষ্টা?

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, "এই নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক। আমরা এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করতে চাই যা দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং গণতন্ত্রকে আরও দৃঢ় করবে।"


কারা ছিলেন এই সাক্ষাতে?

সাক্ষাতে অংশ নেন ANFREL-এর নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা রোসালেস, পরামর্শক মে বুটয়, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার থারিন্ডু আবেরত্না, প্রোগ্রাম অফিসার আয়ান রহমান খান এবং প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আফসানা আমেই।


কী বলেছে ANFREL?

এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL) দীর্ঘ দুই দশক ধরে এশিয়াজুড়ে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তারা যে বিষয়গুলো তুলে ধরে তা হলো:

  • নাগরিকচালিত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা পুনর্গঠন

  • স্টেকহোল্ডার ম্যাপিং

  • সুশীল সমাজের সম্পৃক্ততা

  • নির্বাচনী স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উদ্যোগ

তারা জানান, এসব পদক্ষেপ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।


আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব

ANFREL-এর প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে, তারা বাংলাদেশে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রস্তুত তারা।


কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাসে প্রতিটি নির্বাচনই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে যে প্রস্তুতি ও আন্তরিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা দেশের গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে।

আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ইতিবাচক বার্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ — উভয়ই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য শুভসংকেত। যদি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়; বরং বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

‘মার্চ ফর গাজা’: ইসরাইল ও বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত

গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় লাখো মানুষের বিক্ষোভ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি আলোচিত

১২ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যারা ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার হন। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করে এবং ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করার দাবি জানিয়ে নানা স্লোগান দেন। সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল গাজার জনগণের প্রতি আন্তর্জাতিক সহানুভূতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর।

এই সমাবেশটি শুধু দেশের মধ্যে নয়, আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেমন আল-জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ওয়াশিংটন পোস্ট, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, আরব নিউজ, এবং টাইমস অব ইসরাইল। এমনকি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভের খবর প্রকাশ করেছে টরেন্টো স্টারস্টার ট্রিবিউনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেন এবং গাজায় ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান। প্রতিবাদকারীরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবার আহ্বান জানান।

আরব নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ঢাকায় জমায়েত হন। তারা গাজার জনগণের প্রতি বাংলাদেশের বৃহত্তম সংহতির নিদর্শন হিসেবে বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলি পণ্য বয়কটের শপথ নেন এবং ‘ফ্রি ফ্রি ফিলিস্তিনি’ স্লোগান দেন।

টাইমস অব ইসরাইল উল্লেখ করেছে যে, প্রায় এক লাখ মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। তারা ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে এবং ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময়, ইসরাইলি সরকারের সমর্থকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি পদদলিত করেন।

বিক্ষোভে প্রতীকী লাশ প্রদর্শন
সমাবেশে গাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর প্রতীক হিসেবে কয়েকজন বিক্ষোভকারী প্রতীকী লাশ নিয়ে আসেন। এটি ছিল গাজার বেসামরিক লোকদের প্রতি সহানুভূতির একটি শক্তিশালী প্রকাশ।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও বাংলাদেশের জনগণের সংহতি
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সমাবেশে প্রায় এক লাখ মানুষ অংশ নেন, এবং এ কর্মসূচি দেশীয় ইসলামী দলগুলোসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন লাভ করে। একদিকে যেমন সমাবেশটি একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ছিল, তেমনি অন্যদিকে এটি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের জোরালো সংহতি প্রকাশের এক অনন্য উদাহরণ ছিল।

এছাড়া এপি এবং ফাস্টপোস্ট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই প্রতিবাদ কর্মসূচি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং এটি বিশ্বে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ ও সংহতি
ঢাকায় আয়োজিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচি একদিকে গাজার জনগণের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের গভীর সহানুভূতি ও সমর্থন প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে ইসরাইলি আগ্রাসন এবং তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশে এমন বিক্ষোভ আরও বাড়তে পারে, যা মানবাধিকার রক্ষা ও শান্তির জন্য একটি বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।

আনন্দ শোভাযাত্রার নিরাপত্তায় ১৮ হাজার পুলিশ মোতায়েন, ড্রোনে চলবে সার্বক্ষণিক নজরদারি

বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আসছে, এবং এই দিনটি উদযাপনে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী করা হয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানী ঢাকা এবং সারা দেশে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। এদিকে, বিশাল এই আয়োজনকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সজাগ নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, পহেলা বৈশাখের উৎসব সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের জন্য ঢাকা মহানগরকে ২১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। এখানে নিরাপত্তার জন্য সাদা পোশাকসহ ইউনিফর্ম পরিহিত পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে, যেমন রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবর, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে প্রবেশের আগে তল্লাশি ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, অনুষ্ঠানস্থলে সিসি ক্যামেরাসহ স্থির এবং ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে এবং ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলবে।

প্রতিটি অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা চেকপোস্ট

নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের মুখে আর্চওয়ে এবং মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। রমনা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো প্রধান এলাকাগুলোতে ব্যারিকেট থাকবে এবং ফুট পেট্রোলিং টিমগুলো সারা দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা ইভটিজিং ও ছিনতাই রোধে কাজ করবে।

গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং

পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সাইবার মনিটরিং চালু রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অপপ্রচার বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হলে তা দ্রুত রোধ করা হবে। এছাড়া, সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সাইবার ক্রাইম মোকাবিলা করা হবে এবং র‍্যাবও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে।

র‍্যাবের টহল ও বিশেষ বাহিনীর প্রস্তুতি

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানায়, তাদের বাহিনী সারা দেশে মোটরসাইকেল পেট্রোল, গাড়ি পেট্রোল, চেকপোস্ট, অবজারভেশন টাওয়ার এবং গোয়েন্দা নজরদারি চালাবে। র‍্যাবের সদস্যরা ২৪৭টি পিকআপ টহল, ১২২টি মোটরসাইকেল টহলসহ মোট ৩৪৬টি টহল, এবং সাদা পোশাকে ৪১৩ জন সহ মোট ২,৪৪৯ জন সদস্য মোতায়েন করবে। র‍্যাবের স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডো টিমও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে।

নিরাপত্তায় পূর্ণ প্রস্তুতি, ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, নববর্ষের উৎসব সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য পহেলা বৈশাখে ঢাকা শহরজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। র‍্যাব, আর্মি ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিরাপত্তা কাজে সহযোগিতা করবে এবং যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পহেলা বৈশাখে দেশের শান্তিপূর্ণ উদযাপন আশা

এদিকে, ডিএমপি এবং র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আশা করেন এবারের পহেলা বৈশাখ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্কতা, গোয়েন্দা নজরদারি, এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সকল নাগরিককে নিরাপদে উদযাপন করতে সহায়তা করা হবে।

পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষের উৎসব সবার জন্য আনন্দময় মুহূর্ত। তবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য, ড্রোন নজরদারি, এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে যে, বাংলা বর্ষবরণ উৎসব সবাই নিরাপদভাবে উদযাপন করতে পারবেন।

এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার রোধে সাইবার পেট্রোলিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। নিরাপত্তার এই ব্যাপক ব্যবস্থা সবার জন্য একটি আনন্দময় ও শান্তিপূর্ণ পহেলা বৈশাখের আশ্বাস দিচ্ছে।

সাত গম্বুজ মসজিদ ও অজানা সমাধির গল্প

ঢাকার জমজমাট জীবনের ভিড় থেকে সরে এসে আড়ম্বরহীন শান্তির খুঁজে পেতে পারলেন কি? শুক্রবারের কোনো এক ঝলমলে ছুটির দিনে মোহাম্মদপুরে ঘুরে আসুন দুই নীরব প্রত্যক্ষদর্শীর কাছে—সাত গম্বুজ মসজিদ ও তার স্নেহঢাকা ‘অজানা সমাধি’। ইতিহাসের পাতায় যে অধ্যায়গুলো আজো অমলিন, সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে এই দুই স্মৃতিস্তম্ভ।


ইতিহাসের পাতায় সাত গম্বুজ মসজিদ

১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে মোঘল সাম্রাজ্যের সুবেদার শায়েস্তা খাঁর প্রভুত্ব বাংলা আখ্যায়িত ছিল শান্তিময়। তাঁর পুত্র উমিদ খাঁ মোগল স্থাপত্যরীতিতে মোহাম্মদপুরে নির্মাণ করেন এক বুড়িৎ নিদর্শন—সাত গম্বুজ মসজিদ। লাল বাগ দুর্গ মসজিদ ও খাজা আম্বর মসজিদের শৈলীতে এ মসজিদ স্থাপন করা হয়েছিল। ১৫ ফুট উঁচু প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে এ মসজিদ; দেড় শতকের বেশি সময় পার হলেও এর লাল ইটের অলঙ্কার আজো আভিজাত্য আবিষ্কার করে।

মসজিদের ছাদে তিনটি বড় গম্বুজ—মগ্র মরুভূমির সমতলে নজিরবিহীন আর চার কোণে ছোট গম্বুজ চারটি, যা স্থাপত্যগত ভারসাম্য বজায় রাখে। চার কোণে মিনার, টার্নিং খিলান, ইটের কারুকাজ ও খচিত মেহরাব— সবই সেই সময়কার শিল্পীর দক্ষতার সাক্ষ্য বহন করে। মসজিদের দেয়ালে সিমেট্রিকাল খিলান, অষ্টধাতু খিলঞ্জি ও জ্যামিতিক নকশা মুগ্ধ করে প্রতিটি দর্শককে।

মসজিদের অভ্যন্তরে প্রার্থনার স্থান চার সারিতে সাজানো। প্রায় ৯০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। এর সামনের প্রশস্ত বারান্দা ও উদ্যান এককালের বুড়িগঙ্গা তীরবর্তী গঞ্জনা স্মরণ করিয়ে দেয়, যখন লঞ্চ-স্টিমাররা ধারে ঘাট জমজমাট করে যেত। আজ সে গমগম হারিয়ে গেলেও স্মৃতিস্তম্ভ নিজ রূপে অব্যাহত।


অজানা সমাধির রহস্য

মসজিদ থেকে মাত্র কয়েকশো গজ দূরে আছে এক ‘অজানা সমাধি’। স্থানীয়দের কাছে ‘বিবির মাজার’ নামেও পরিচিত। বাইরের দিকে চতুষ্কোণ আকৃতির এ সমাধি, ভেতরে অষ্টকোণাকার—মোগল ধাঁচের একটি ছোট গম্বুজ বেষ্টিত। কার কবর, সম্রাটদের কোনো ডায়েরি না থাকায় জানা আজও কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। ইতিহাসবিদদের অনুমান, হয়তো মসজিদের কোনো বরেণ্য মুসলিম নেতা বা সুফি সাধকের সমাধি, আবার কেউ কেউ বলেন, শায়েস্তা খাঁর কন্যার مساادى হতে পারে।

বহুকাল পরিত্যক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত এ স্থানের পুনরুদ্ধার হয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আজ এটি নতুন রূপে দাঁড়িয়ে আছে। পুরনো পাচঁ-ছয়টি ইটের পাত ভেঙে যেতে যেতে আজাব দাঁড়িয়ে থাকা মাটির প্রাচীরগুলোতে আবার সাজাল বেহালকার, যেন ইতিহাসের কণ্ঠস্বর ঘুরে ফিরে আসে প্রত্যেক দিক থেকে।


দর্শনীয় স্থান ও সুবিধা

অবস্থান ও যাতায়াত

মোহাম্মদপুর রিং রোড ধরে মণিপুরীপাড়া বা বসিলা রোডের দিকে আসলেই চোখে পড়বে সূক্ষ্ম সাইনবোর্ড। সরু গলি পেরিয়ে প্রবেশের পর সামনে মসজিদ, পাশেই সমাধি—সবই এক চাহনিে।

  • ব্যক্তিগত যানবাহন: রিং রোড থেকে সহজেই উল্টে ছোট রাস্তা দিয়ে প্রবেশ

  • রিকশা: মোহনপুর পয়েন্ট বা রিং রোডের যেকোনো পয়েন্ট থেকে রিকশায় ১০–১৫ মিনিটে পৌঁছানো যায়

  • পার্কিং: সামান্য স্থান থাকলেও বাইকে পার্কিং সুবিধা রয়েছে

আশেপাশের আকর্ষণ

  • লালমাটিয়া ও তাজমহল রোড: এখানের কাবাব, চাপ, বিরিয়ানি বিখ্যাত—দু’মুঠো খাবারে ভ্রমণী ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে

  • বুড়িগঙ্গা ঘাট: পূর্বজলের স্মৃতি ধরে রাখা ঘাটের ধারে একটি নীরব উদ্যান


পরিদর্শন পরামর্শ

  1. সময় নির্বাচন: সকালবেলায় সূর্য ওঠার আগে বা বিকেলের হালকা আলোতে মসজিদ ও সমাধি পরিদর্শন উপভোগ্য

  2. পোষাক: ধর্মীয় স্থান হওয়ায় লম্বা, ঢাকনো পোশাক পরিধান করলে সম্মানজনক হয়

  3. ফটোগ্রাফি: স্থাপত্যের অলঙ্কার, খিলান ও মিনারের ডিটেইল শুট করতে পৌঁছে

  4. গাইড: স্থানীয় উপাখ্যায়ি বা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গাইড থাকলে ইতিহাস বোঝা সহজ


উপসংহার

ঢাকার কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন এই নিস্তব্ধ স্থানে দাঁড়ালে মনে হবে একরাশ ইতিহাসের নিঃশব্দ সাক্ষী সামনে। সাত গম্বুজ মসজিদের সুউচ্চ ইটের কারুকাজ, তার পাশের অজানা সমাধির রহস্যময়তা—সবই মানুষকে অতীতের অমলিন অধ্যায়ে পা রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। একদিনের ছুটিতে বা সপ্তাহান্তের কোনো সকালে এই দুই নিদর্শন আড্ডা দিতে আসা মানে কেবল ভ্রমণ নয়; ইতিহাসের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতা।

স্বাধীনতার ‘আওয়ামী বয়ান’ বিলুপ্তিতে ঐক্যমতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ইতিহাসে সংবিধানে সন্নিবেশিত ‘আওয়ামী বয়ান’ বিলুপ্তির বিষয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি একমত পোষণ করেছে। এটি সংবিধান সংস্কার কমিশনের দেয়া প্রস্তাবনার আলোকে জানানো হয়েছে।

কমিশনের পর্যালোচনা অনুযায়ী, এই তিনটি রাজনৈতিক দল ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫০(২) বিলুপ্ত করা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ৫ম, ৬ষ্ঠ এবং ৭ম তফসিল সংবিধানে না রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছে। কমিশনের সর্বশেষ স্প্রেডশিট থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

১৫০ (২) অনুচ্ছেদ-এ উল্লেখ রয়েছে, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তারিখে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬শে মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এবং ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংক্রান্ত দলিল এবং ভাষণের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু এই তিনটি রাজনৈতিক দল এই অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করার প্রস্তাবে একমত হয়েছে।

সংবিধান সংস্কারে দলগুলোর মতামত

সংবিধান সংস্কার বিষয়ে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি মোট ৭০টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪টি প্রস্তাবে একমত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশি হিসেবে পরিচিতি-এর বিষয়টি এবং রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রক্রিয়া

এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে, রাষ্ট্রদ্রোহ বা গুরুতর অসদাচরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই বিষয়েও তিনটি দল একমত হয়েছে।

রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং পরবর্তী পদক্ষেপ

কমিশন জানিয়েছে, আগামী সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংবিধান সংস্কার এবং অন্যান্য বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হবে সেই প্রস্তাবগুলোকে, যেগুলোর বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল একমত।

বাংলাদেশ সর্বদা স্বাধীন ফিলিস্তিনের প্রতি তার অটল সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

বাংলাদেশ, জাতিসঙ্ঘের একাধিক প্রস্তাবের সাথে সঙ্গতি রেখে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য লক্ষ্যে তার অটল সমর্থন অব্যাহত রাখবে। এ আশ্বাস শুক্রবার তুরস্কে ‘আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম (এডিএফ)-২০২৫’-এর ফাঁকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম এ.এ. খানের সাথে এক বৈঠকে দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো: মাহফুজ আলম।

বৈঠকে ফিলিস্তিনের দুর্দশায় গভীর সহানুভূতি

বৈঠকে, বাংলাদেশ দুই উপদেষ্টা সাম্প্রতিক ফিলিস্তিনের জনগণের দুর্দশার প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং রোহিঙ্গা সঙ্কট ও গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসি’র অবস্থানের প্রশংসা করেন। তারা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার ও সঙ্কটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপরও গুরুত্ব দেন।

আইসিসি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা

দুই পক্ষ বৈঠকে বাংলাদেশ ও আইসিসি’র মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আইসিসি’র সাথে বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞদের প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান। আইসিসি’র প্রসিকিউটর করিম এ.এ. খান আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অটল অবস্থানের প্রশংসা করেন।

আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরামে অংশগ্রহণ

আজ তুরস্কের আনাতোলিয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেপ এরদোগানের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম (এডিএফ)-২০২৫’। এই ফোরামের মাধ্যমে কূটনীতির পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার এবং একটি বিভক্ত বিশ্বে সম্মিলিত পদক্ষেপের সাধারণ ভিত্তি খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা হবে।

এফডিএফ-এ ২০টিরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, ৫০টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ৭০টিরও বেশি মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রায় ৬০ জন সিনিয়র প্রতিনিধি, শিক্ষার্থীসহ ৪ হাজারেরও বেশি অতিথি অংশগ্রহণ করছেন।

সূত্র: বাসস